বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা ॥
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আব্রাহাম চুক্তি’-তে যোগ দেওয়ার আহ্বানকে প্রকাশ্যেই নাকচ করেছে প্রভাবশালী এই দুই মুসলিম দেশ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে সৌদি এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রিয়াদ তাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানেই অবিচল রয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট পথ’ তৈরি না হওয়া এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না মেলা পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না তারা।
অন্যদিকে পাকিস্তানও ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে জড়াবে না বলে তাদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পরই এই দুই দেশের তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।
সৌদি আরব ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ‘সামা টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে, আমাদের দেশের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো চুক্তিতে আমাদের যোগ দেওয়া উচিত।” ইসরায়েলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “যাদের কথার ওপর একটি দিনের জন্যও আস্থা রাখা যায় না, তাদের সঙ্গে আপনারা কীভাবে চলতে পারবেন? আমাদের অবস্থান স্পষ্ট যে, এটি আমাদের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খাজা আসিফ উল্লেখ করেন যে, ইসলামাবাদ এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং তাদের পাসপোর্টে ইসরায়েল ভ্রমণের অনুমতি নেই। তিনি গর্বের সাথে বলেন, “আমরাই একমাত্র দেশ যাদের পাসপোর্টে এমনকি ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই।”
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর পরিধি বাড়াতে চাপ সৃষ্টি করলেও ফিলিস্তিন সংকটকে উপেক্ষা করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য এখন মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে হোয়াইট হাউজে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে দিয়ে এই চুক্তি সই করিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মরক্কো ও সুদানও এতে যোগ দেয়। গত বছর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন যে সৌদি আরবও একদিন এই চুক্তিতে শামিল হবে, তবে রিয়াদ ও ইসলামাবাদ তাদের অনড় অবস্থানের মাধ্যমে ট্রাম্পের সেই আশায় আপাতত পানি ঢেলে দিল।